চালচুলোহীন এক ভিখিরীর কাছে,
অদ্ভূত এক পূর্ণিমার গল্প শুনেছিলাম একবার,
দারিদ্রের কষাঘাতে ম্রিয়মাণ শরীর তাঁর জেরবার!
তবু আগুন জ্বলা চোখের দীপ্তি তে,
জোছনার রোশনাই ফুটে উঠছিলো বারবার!
উনি বলছিলেন কষ্ট মাখা জীবনের গল্প তাঁর –
“কোন এক রাতে, যখন শরীরে তীব্র জ্বালা ক্ষুধার-
এমন সময় কালো মেঘের সাথে সন্ধি করে,
মর্তে নেমেছিলো চাঁদের আলো, সব করে দিয়ে উজাড়।
পথ-ঘাট প্লাবিত করে শুভ্র আলোকচ্ছটায়,
আলোর মৃদু-নরম ঝলকানিতে, পঙ্কিলতা যেন সব হারায়!
গলি থেকে রাজপথে, রাজপথ হয়ে মেঠো পথ –
আলোর মাধুর্য সব কিছুকে ভাসায়!”
“ঠিক এমন সময়, আকাশের পূবে,
উদয় হয় সেই সেই তিলোত্তমার –
যার অপেক্ষায় স্বর্গ-মর্তে দেব হাজার!
আলোর ঝলকানিতে, নৃত্যের নিপুণ কলায়-
বাতাসের উস্কানি তে যেন হৃদয় গলায়!
কোমল পেলব, মাখন ত্বক, মেঘ কালো কেশ-
চোখে মায়াবী জাল, পরনে স্বর্ণিল বেশ!”
“মর্তের মাটিতে পড়তেই তাঁর পা,
অদ্ভুত চঞ্চলা বাতাসে ভেসে যায় শহর-গাঁ!
সুতীব্র শব্দে শিষ তোলে বাতাস, তার বাহু দল দোলে-
ঠিক অপ্সরী নয় সে, যেন কোন লাল পদ্ম তার শতদল খোলে!
চঞ্চলা, চপলা, ভরা যৌবনা সে নেচে যায় আপন ছন্দে-
আমার দুর্বল চিত্তে, আগুন জ্বেলে দেয় প্রতিটি রন্ধ্রে!
নাচতে নাচতে সে অপ্সরী, ফিরে নাহি চায়!
ছন্দের প্রতিটি মেলায়, শুধু ডাক মোরে দিয়ে সে যায়!
ভগ্ন হৃদয়ে তৃষিত আমি, ছুঁতে চাই শুধু তাঁকে,
অন্তর জুড়ে জাগে তারই আকুল ডাকে।
ছলনাময়ীর নাচের ছন্দে বিভোর মন,
হন্যে হয়ে খুঁজে তাঁকে আঁকি মনে মিলনের স্বপন।”
“এক সময় ধ্যান ভেঙে তাঁর, শেষ হয়ে আসে রাত,
ভোরের শিশিরে ভিজিয়ে দেয় তাঁরে ঈর্ষীত জগন্নাথ!
হাজার পাখির ডাকে, বাজে বিদায়ের সুর!
জানি না কবে ফের দেখা পাবো তাঁর, সে কি বহুদূর?
যাবার আগে শেষ বারের ন্যায় চোখাচোখি হয় মোর –
মর্ম ছিঁড়ে চোখে আসে জ্ল, জিগাই স্রষ্টাকে, কেন এল সে ভোর?
জানিনা সে কি বিভ্রম, নাকি কোন ছল!
ভুল করে বোধ করি,
তাঁর চোখেও দেখেছিলাম স্ফটিক দু-ফোঁটা জল!”
“বিদায় দেবী, বিদায় প্রেমী, বিদায় তিলোত্তমা,
আমার জীবনের হিসেবের খাতায় এই রাতটুকুই শুধু জমা!
হিসেবের খাতায় কি পেলাম, কি আসে যায় তাতে?
তোমার অদৃশ্য ছোঁয়ায় কেটে যাবে মোর সহস্র দিনে-রাতে!
এরপরও সে চেয়েছিল দিতে আমার প্রেমের ডাক!
নিঠুর ঈন্দ্রের কূটচালে নেয় চাঁদের অন্য বাঁক!
আমাদের মিলনের পূর্ণিমা রাতে-
মর্তটাকে মাঝে এনে দেয় ঈন্দ্র কোন দেব শক্তি বলে!
চাঁদের আলোয় রক্ত জমে, জোছনায় যেন আগুন জ্বলে!
তিলোত্তমা তড়পে মরে স্বর্গে, আমি মরি এ জগতে…
প্রেমের বলিতে কত-শত মন, পড়ে থাকে এ ভগতে!”
যদি কোনদিন দেখতে পাও আবার সে লাল চাঁদ,
ভেবে নিও তবে, আর কিছু নয়,
তা আমার-তিলোত্তমার না পাওয়া প্রেমের স্বাদ!

Leave a Reply