জানে সে কি!
আমার না খুব দোলনায় ঝুলন্ত
সেই শিশুর মতো হতে ইচ্ছা করে!
যে উড়ন্ত, ভাবনা-হীন;
আকাশ যেথায় আমার এক মাত্র দিগন্ত!
আমার না খুব সেই ষোড়শী কিশোরী
হতে ইচ্ছা করে আবার,
আলতা পায়ে মায়ের শাড়ি পড়ে
ছুটে বেড়াবো সেই সবুজ বাগানে,
আলতো হাতে প্রজাপতি ধরে বলবো,
তোমার কিছু রং দিবে গো আমায়?
আমার না খুব বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছা করে,
ঠিক সেই ছোট বেলার মত!
বৃষ্টির জলে ভিজে ভিজে ঠান্ডা লাগিয়ে
মায়ের আঁচলে ঢুকে আদর খেতে ইচ্ছা করে!
কিন্তু সেই দিন যে হয়েছে গত –
বিশটি বছর আগে,
বাবার হাত ফস্কে কই যেন এসেছি চলে!
এই অচেনা জগতে বিষাক্ত সব কিছু –
এখানে হারিয়েছি আমার মেয়েবেলা, মা-বেলা!
এখানে ঘৃণাই জীবন,
অমাবস্যার কালো ঘিরেছে আমাকে,
অযথাই!
ভাবতে ভাবতে দেখো ফের চলেই এলে তুমি!
অথচ, তোমার অপাত্রে ঘি ঢালতে
ভালো লাগে না আর!
অযথাই অরণ্য এ রোদন না করে,
সব কিছু ভুলে যেতে ইচ্ছা করে –
এক একটি অভিশপ্ত দিন,
সপ্তাহ, বছর – পিছনের গত বিশটি বছর!
বেঁচে থাকা ভুলে, গলা চিপে মেরে ফেলার ইচ্ছাকে,
কিছু সময়ের জন্য ভুলে থাকতে ইচ্ছা করে!
অথচ,
এমন কি হওয়ার কথা ছিল আমার তোমার?
আমি তো সেই কিশোরী মনটা তোমাকে দিয়েছিলাম!
বিনিময়ে তুমি আমার হও নি কখনোই!
রয়ে গেছ আপন জগতের অন্ধকার মায়ায়,
আর সব কিছুর মত,
বাজি ধরেছো আমাকে নিয়েও!
আমার মান-অভিমান, আবেগ,
আর আমার ভালবাসা নিয়েও!
তোমার বায়ান্ন তাসে সব ছিল,
শুধু ভালোবাসার রানীটাই ছিল না!!
ছিল শুধু গোলাম, তোমার চাওয়ার-পাওয়ার
তোমার লালসা-কামনার!
গোলামের ন্যায়,
বার বার ছুঁড়ে মেরেছ আমায়,
ঠিক যেন শ্যাওলা জমে থাকা এক টুকরো ফুটো পয়সা,
যার প্রয়োজন তোমার কাছে হারিয়েছে বহু আগেই!
অথচ,
আমি শান্ত নদী হয়ে শুধু বয়ে চলেছিলাম,
ভালোবাসা কুড়িয়ে গাঁথতে চেয়েছি ঝিনুকের মালা,
তুমি জোয়ার হয়ে ভাসিয়ে দিয়েছ সব!
ভাটায় দিন গেছে, বছর গেছে,
আমি কান্নায় ভাসিয়েছি বুক!
ভেবেছি প্রতিটি দিন, এই বুঝি এল সুখ!
সুখ কি আর ছেলের হাতের মোয়া?
ধরা দেয় নি কোনো দিন, কখনো না!
তবু, এই নদী বয়ে চলে—
তার গভীরে রয়ে যায় অপ্রকাশিত গান,
না বলা শত-সহস্র কথা।
তবু, আমি বেঁচে আছি, নিয়ে স্রষ্টার আশ্বাস —
নিয়ে শত ক্ষত, অমাবস্যার ইতিহাস।
তুমি ভুলে গেছ, কিন্তু আমি ভুলিনি কিছুই —
বাজি তো ধরো প্রতিদিন, এবার না হয় ধরো আমাতেই!
একদিন এই শুকনো নদীতেই বইবে সুখের জোয়ার,
একদিন-প্রতিদিন, আবার – বার বার।

Leave a Reply